হিফয বিভাগের শিক্ষার্থীরা নাযেরা সমাপনীসহ মোট ৪ বছরে হিফয সম্পন্নের পাশাপাশি জেনারেল বিষয়ে ৪র্থ শ্রেণি শেষ করবে এবং ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের’ অধীনে হিফয পরীক্ষা দিবে।
হিফযের জন্য বর্ণিত সিলেবাস বৎসর কৈন্দ্রিক নয়; বরং মেধার উপর নির্ভরশীল। তবে এ বিভাগের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৪ বছর। কারও এর চেয়ে বেশি সময়ের প্রয়োজন হলে তার ব্যাপারে পরামর্শভিত্তিক ফায়সালা করা হয়।
হিফয বিভাগের তালিবে ইলমদের জন্য তাজবীদের সাথে উত্তম আওয়াজে নির্ধারিত লাহনে তেলাওয়াতের জন্য দৈনিক কিছু সময় উস্তাদ কর্তৃক (কখনো প্রসিদ্ধ কোনো কারীর ক্যাসেট থেকে) মশকের তারতীব বাধ্যতামূলক রাখা হয়। প্রতি শুক্রবার সকাল ৭.০০টা থেকে ৯.০০টা পর্যন্ত এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য তাজবীদসহ মশকের একটি বিশেষ ক্লাস রয়েছে। যেখানে হিফযের সকল ছাত্রকে বাধ্যতামূলক উপস্থিত থাকতে হয়। এ ক্লাসে মশক করান ড. হাফেয মাওলানা এ.বি.এম হিজবুল্লাহ সাহেব দামাত বারাকাতুহুম (অধ্যাপক : আলকুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।)
এ কথা স্বতঃসিদ্ধ যে, হিফয বিভাগের একজন তালিবে ইলমকে পূর্ণ সময়টা হিফযের পিছনে ব্যয় করে মনসংযোগ ও একাগ্রতার সাথে মেহনত করতে হয়। সে ক্ষেত্রে হিফয করাটাই থাকে তার প্রধান কাজ। অন্যান্য বিষয়গুলো থাকে প্রাসঙ্গিক। এমতাবস্থায় প্রাইমারি স্তরের জেনারেল বিষয়গুলো পরিপূর্ণ আত্মস্থ করা তার জন্য কঠিনসাধ্য ব্যাপার। তাই বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতিদিন অল্প কিছু সময় তাকে জেনারেল বিষয়ের পাঠদান করা হয়। যেন এগুলোর সাথে মোটামুটি পরিচিতি হয়ে ওঠে। ফলে তার মূল হিফয ঠিক রাখতে গিয়ে জেনারেল বিষয়ে কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও পরবর্তী কিতাব বিভাগে ধারাবাহিক মেহনতের মাধ্যমে তা দূর করার চেষ্টা করা হয়।